রাশি কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি।

রাশি কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি

রাশি 

 যা কিছু পরিমাপযোগ্য, তাকে রাশি বলে ।বলতে গেলে রোজ সকালে আমরা স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় যাই কতটুকু যাই আর কোন দিকে যাই, আবার বাইক চালানোর সময় এর গতি কেমন রাখা দরকার, সকালে রোজ ঘুম থেকে উঠে কতটুকু মাপের টেবিলে পড়তে বসি এর হিসাব-নিকাশ আর কতক্ষন পড়বো এগুলোর পরিমাপেই হচ্ছে রাশি।

 যেমন- ভর, সময়, বেগ, বল, তৃুরণ ইত্যাদি। 

আচরণের দিক থেকে রাশিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• চলক এবং 

• ধ্রুবক।

 চলক:   

যে সকল রাশি স্থান ও কালের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল, তাদের চলরাশি বা চলক বলে। 

 চলককে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয় । যথা:

 ১. স্বাধীন চলক ও 

২. নির্ভরশীল চলক।

 কোন চলরাশি অবশ্যই এক বা একাধিক চলকের সাথে কোন না কোন সম্পর্ক বজায় রেখে পরিবর্তনশীল হবে৷ পরিবর্তনের প্রকৃতি এমন হবে যে, অন্তত একটি চলকের কোন স্বাধীন সত্তা থাকবে না। একে নির্ভরশীল চলক বলে এবং বাকি চলকগুলো স্বাধীনভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, এদেরকে স্বাধীন চলক বলে।

 যেমন-

y = f(r,t)

 সমীকরণে y কে নির্ভরশীল চলক এবং r ও t কে স্বাধীন চলক বলা হবে।

 ধ্রুবক :  

যে রাশি স্থান ও কালের সাপেক্ষে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে ধ্রুবক বলে। যেমন- বস্তুর ভর,  সমত্বরন, সমবেগ ইত্যাদি।

কয়েকটি ধ্রুবকের মান -

রাশি কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধ্রুবকের মান 

রাশি কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধ্রুবকের মান 

 রাশিগুলোর বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে, এদের দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা 

১. স্কেলার বা অদিক রাশি ও

 ২. ভেক্টর বা দিক রাশি।

 ১. স্কেলার রাশি

যে সকল রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়   কিন্তু দিকের প্রয়জন হয় না, তাদের স্কেলার বা অদিক রাশি বলে। 

যেমন- কোন,তল,দৈর্ঘ্য,ভর,সময়,দ্রুতি,দুরত্ব,গতি,তাপ,তাপমাত্রা,দীপনতীব্রতা,পদার্থের পরিমাণ, আপেক্ষিক গুরুত্ব, কাজ,ক্ষমতা, শক্তি( বিভব শক্তি ও গতিশক্তি),পৃষ্ঠশক্তি,চাপ,আয়তন,ঘনত্ব,স্থিতিস্থাপকত,চার্জ বা          আধান,রোধ,ধারকত্ব,তড়িৎপ্রবাহ,তড়িৎবিভব, বিভব,বিভবপার্থক্য,মহাকর্ষীয়বিভব,তড়িৎআধানতড়িৎচালক শক্তি,জনসংখ্যা,  পীড়ন,বিকৃতি, প্রতিসরণাঙ্ক,শিশিরাঙ্ক, আপেক্ষিক আর্দ্রতা,ডাইভারজেন্স , চক্রগতির ব্যাসার্ধ,  জড়তার ভ্রামক, কর্মদক্ষতা, তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, কম্পাঙ্ক, বিস্তার, 

ইত্যাদি। 

এই রাশি গুলো পরিমাপের জন্য যেহেতু অন্য কোন রাশির প্রয়োজন পরে না তাই এদেরকে মৌলিক রাশিও বলা হয়ে থাকে।


 ২. ভেক্টর রাশি:

যেসব রাশি প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়েরই প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর বা দিক রাশি বা সদিক রাশি বলে। 

যেমন- বেগ, কৌনিক বেগ,অসম বেগ,সমবেগ,আপেক্ষিক বেগ,গড়বেগ ,মধ্যবেগ,অন্তঃবেগ,সঞ্চারন বেগ, 

ত্বরন,অসম ত্বরন, সম ত্বরন, গড় ত্বরন, আপেক্ষিক ত্বরন,মধ্যাকর্ষনজনিত ত্বরন,কৌনিক ত্বরন,অভিকর্ষ ত্বরন, 

 সরন ,কৌনিক সরন, কৌনিক সরন,বৈদ্যুতিক সরন, 

ভরবেগ , কৌনিক ভরবেগ, রৈখিক ভরবেগ,

 বল,বলের ঘাত,ঘর্ষন বল,লরেঞ্জ বল,সংশক্তি বল, আসঞ্জন বল,কেন্দ্রমুখি বল,টর্ক, 

ওজন ,মন্দন, সান্দ্রতা(সান্দ্রবল), সান্দ্রতা গুনাঙ্ক, পৃষ্ঠটান,  মহাকর্ষীয় প্রাবল্য,মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র, সান্দ্রতার গুনাঙ্ক , ভ্রামক(সমস্ত ভ্রামক ভেক্টর রাশি শুধু জড়তার ভ্রামক স্কেলার রাশি), 

দ্বীমেরু ভ্রামক, তড়িৎ তল, চৌম্বক ফ্লাক্স,চৌম্বক তল, চৌম্বক দৈর্ঘ্য, চৌম্বক ভ্রামক(মোমেন্ট), চৌম্বক তীব্রতা, চৌম্বক ফ্লাক্স ঘনত্ব,ভূ-চৌম্বকের আনুভূমিক প্রবাল্য,

তড়িৎক্ষেত্র, প্রাবল্য,তড়িৎ প্রাবল্য,প্রবাহ ঘনত্ব, গ্রেডিয়েন্ট, কার্ল,ওয়েব ভেক্টর, পোলারায়ন, পয়েন্টিং ভেক্টর, 

 ইত্যাদি।

এই রাশি গুলো পরিমাপের জন্য এক বা একাধিক মৌলিক রাশির প্রয়োজন তাই এদের লব্ধ রাশি বলা হয়ে থাকে। এদেরকে  বিভিন্ন সূচকে মৌলিক রাশির গুনফল আকারেও প্রকাশ করা যেতে পারে। যেমন -

ভরবেগ = ভর × বেগ = ভর × সরন/সময়

 

আরো পড়ুন: ট্রানজিস্টর 






Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url